গোলমরিচের অজানা কিছু কথা : গোলমরিচ গাছ দেখতে অনেকটা পান গাছের মতো দেখতে। পাতা গুলিও দেখতে প্রায়ই পানপাতার মতো। ভারতে গোল মরিচের ব্যবহার যথেষ্ট পরিমানে রয়েছে এবং এই গোল মরিচের চাষও যথেষ্ট পরিমানে হয়ে থাকে। তবে উত্তর ভারতের তুলনায় দক্ষিণ ভারতে এই গোল মরিচের চাষ অনেক বেশি হয়ে থাকে। দক্ষিণ ভারতের কেরালায় যে পরিমানে গোলমরিচ চাষ হয় তা ভারতের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। তবে গোলমরিচের তিন প্রজাতি রয়েছে যথা সাদা গোমারিচ, সবুজ গোলমরিচ, ও কালো গোলমরিচ। গোলমরিচের বিজ্ঞান সন্মত নাম হলো পিপার নিগ্রাম। গোলমরিচের বহু গুনের জন্য ও রান্নায় অতুলনীয় স্বাদ নিয়ে আসার জন্য একে ব্ল্যাক ডাইমন্ড বলা হয়। প্রাচীন কালে পর্তুগীজরা ভারত থেকে প্রচুর পরিমানে গোলমরিচ আমদানি করতেন।
গোল মরিচের পুষ্টি গুন :গোল মরিচের থেকে পাওয়া যায় প্রচুর পরিমানে বিভিন্ন ধরণের
ousadhi গুন সেকারণে গোলমরিচকে
vesaj মশলা বলা হয়। তবে গোল মরিচে পাওয়া যায় ভিটামিন "K"। গোলমরিচের মধ্যে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন "k" থাকায় রক্তাল্পতা রোগীদের পক্ষে অনেক উপকারী হয়ে থাকে। এছাড়াও গোলমরিচ হলো এন্ট্রি অক্সিডেন্ট এ ভরপুর। গোলমরিচে পাওয়া যায় ফাইবার, আইরন, ও ম্যাগনেসিয়াম। গোলমরিচে উপস্থিত পিপেরাইন নামক যে উপক্ষার থাকে তা রান্নার স্বাদের জন্য খুবি উপকারী। গোলমরিচ রান্নায় ব্যবহার করার সঙ্গে সঙ্গে অতুলনীয় স্বাদ এসে যায়।
গোলমরিচের উপকারিতা :গোলমরিচ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে যেসব
উপকার পাওয়া যায় তা নিন্মে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হলো -
১,পুরুষের গোপন রোগ দূর করতে :যেসব পুরুষের গোপন রোগ রয়েছে এবং যাদের যৌন শক্তি অনেক দুর্বল তারা গোলমরিচের ব্যবহারের কথা ভাবতেই পারেন কেননা গোল মরিচে এমন কিছু
ousadhi গুন রয়েছে
যার health benefits হিসাবে এই উপকারটি পাওয়া যায়। সাধারণত এক চিমটে গোলমরিচ গুঁড়ো ও একচিমটে অশ্বগন্ধা একসঙ্গে মিশিয়ে তার সঙ্গে একচামচ মধু মিশিয়ে গরম পানির সঙ্গে পান করলে খুবি উপকার পাওয়া যায়। তবে দিনে দু-বার অর্থাৎ সকাল ও রাত্রি এভাবে খেতে হবে একটানা ৩ দিন।এভাবে একটানা ৩ দিন খেলে পুরুষের যৌন শক্তি বৃদ্ধি পায় সঙ্গে অন্যান্য গোপন রোগ গুলিও নিয়ন্ত্রিত হয়।
২, শ্বাসকষ্ট কমাতে :যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে কোনো কিছুতেই শ্বাসকষ্ট কমছে না তারা বিশেষ পদ্ধতিতে গোলমরিচ ব্যবহার করলে শ্বাসকষ্ট দূর হয়ে যাবে। যেমন এক চিমটে গোলমরিচ গুঁড়ো, একচামচ মধু, পিপুল চূর্ণ এক চিমটে, ও শুকনো আদার গুঁড়ো একচিমটে একসঙ্গে ভালোকরে মিশিয়ে দিনে দু-বার খেলে শ্বাসকষ্ট সেরে যাবে।
৩, ডায়াবেটিস কমাতে :এক চিমটে গোলমরিচ যদি মধু ও শুকনো আদার গুঁড়োর সঙ্গে একসঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায় তাহলে শরীরে ইন্সুলিনের পরিমান স্বাভাবিক থাকে তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রিত হয়।
৪, এলার্জি কমাতে :গোলমরিচ এলার্জি কমাতেও সহায়ক। যাদের পুরোনো এলার্জি রয়েছে কোনো ওষুধেও কাজ হয় না তারা বিশেষ পদ্ধতিতে গোলমরিচ খেলে এলার্জি কমে যাবে।সকাল বেলা খালি পেটে হালকা উষ্ণ গরম পানি পান করার ৩০ মিনিট পর,এক চিমটে গোলমরিচ গুঁড়ো ও এক চিমটে নিমপাতার পাউডার এক কাপ হালকা উষ্ণ জলে মিশিয়ে পান করলে এলার্জি সেরে যায়।
৫, গ্যাস ও এসিডিটি কমাতে :গোলমরিচ গ্যাস ও এসিডিটি কমাতে খুবি কার্যকরি। এক গ্লাস গরম দুধে একটু গোলমরিচ গুঁড়ো ও শুকনো আদার গুঁড়ো একসঙ্গে মিশিয়ে পান করলে গ্যাস ও এসিডিটি কমে যায়। তাই যাদের গ্যাসের সমস্যায় ভুগছেন তারা এটা ব্যবহার করতে পারেন।
৬, আমোসা ও ডায়েরিয়া কমাতে : ১০০ গ্রাম টক দই এর সঙ্গে একটু গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে যদি দুপুর বেলা পান করা যায় তাহলে অমোশা ও ডায়েরিয়া সেরে যায়। তাই যাদের এইসব সমস্যা রয়েছে তারা নিশ্চিন্তে এটা ব্যবহার করতে পারেন। এতে খুবি উপকার পাবেন।
৭, যেকোনো ব্যথা কমাতে :যেকোনো ধরনের ব্যথা কমাতে গোলমরিচ খুবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।একটু গোলমরিচ গুঁড়ো, একটু হলুদ গুঁড়ো, ও শুকনো আদার গুঁড়ো একটু নিয়ে তার সঙ্গে একচামচ মধু মিশিয়ে খেলে যেকোনো ব্যথা সেরে যায়। তাই ব্যথা কমাতে আপনারা এই পদ্ধতিটি অবলম্বন করতে পারেন।
৮, হজম শক্তি বৃদ্ধিতে :হজম শক্তি বৃদ্ধিতে গোলমরিচ এর জুড়িমেলা ভার। গোলমরিচের মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক। হজম শক্তি বৃদ্ধির জন্য যেকোনো ভাবে গোলমরিচ খাওয়া যেতে পারে, সেটা সব্জিতে হোক বা চায়ে হোক।
৯, সর্দি কাশি কমাতে :যাদের সর্দি কাশি লেগেছে অর্থাৎ ঠান্ডা লেগেছে তারা যদি, ২ চামচ গোলমরিচ গুঁড়োর সঙ্গে একচামচ মধু এক কাপ গরম জলের সঙ্গে ভালোকরে মিশিয়ে পান করলে সর্দি ও কাশি কমে যাবে সেই সঙ্গে ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব ও কমে যাবে।
১০ক্যান্সার কমাতে :গোলমরিচের মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক। গোলমরিচের এই বিশেষ গুনের জন্য বিভিন্ন ঔষধ তৈরিতে বর্তমানে গোলমরিচ ব্যবহার করা হচ্ছে।
১১, ওজন কমাতে :যাদের অনিয়মিত খাবার খাওয়ার কারণে ওজন বেড়ে গেছে বা অন্য কোনো কারণে ওজন বেড়ে গেছে তারা ওজন কমাতে গোলমরিচ ব্যবহার করতে পারেন। তবে এক্ষত্রে লেবুর সঙ্গে গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে খেতে হবে, তবেই এই উপকার পাওয়া যাবে।
১২, দাঁতের ব্যথা কমাতে :গোলমরিচে রয়েছে এন্ট্রি ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান যার ফলে দাঁতে ব্যথা হলে গোলমরিচ গুঁড়ো লবনের সঙ্গে মিশিয়ে দাঁতের গোড়ায় ব্যবহার করলে দাঁত ব্যথা কমে যায়।
১৩, জ্বর কমাতে :গোলমরিচ গুঁড়ো ও চিনি এক কাপ জলে মিশিয়ে পান করলে জ্বর সেরে যায়।
১৪,রুচি বৃদ্ধিতে :অনেক আমাদের বিভিন্ন কারণে শরীর দুর্বল হয়ে যায় ও রুচি কমে যায়। তাই রুচি বৃদ্ধির জন্য এক গ্লাস দুধের সঙ্গে একচিমটে গোলমরিচ মিশিয়ে কয়েক দিন পান করলে রুচি বৃদ্ধি পায়।
১৫, দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে :যাদের চোখের সমস্যা রয়েছে এবং চোখে কম দেখেন তারা এক গ্লাস দুধের সঙ্গে একটু গোলমরিচ গুঁড়ো ও এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন কিছুদিন। তাহলে দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পাবে।
Thank you for reading this artical.please share this and support my website to grow further